বিন্দু বিন্দু জলের সমন্বয়ে যেমন সিন্ধু গড়ে
ওঠে তেমনি নিজের মেধা ও মনন দিয়ে বিন্দু বিন্দু করে যশ আর খ্যাতির সিন্ধু তৈরি
করবেন, সেই প্রত্যাশার ডানায় ভর করেই বাবা-মা মেয়ের নাম রাখলেন বিন্দু। বাবা-মার এ
প্রত্যাশা বৃথা যায়নি।
নিজের নামের স্বার্থকতা প্রমাণের খাতিরেই যেন বিন্দু ছুটে
চলেছেন সিন্ধু জয় করতে। বিন্দুর সিন্ধু জয়ের উপাখ্যানের সূত্রপাত হয় দারুচিনি
দ্বীপের নায়িকা খোঁজার মিশনে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে।
লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার
প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর মাধ্যমেই বিন্দু নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা অন্য এক বিন্দুকে
আবিষ্কার করতে শুরু করেন। নাচ, গান কিংবা অভিনয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা সত্ত্বেও
আত্মবিশ্বাস আর ঐকান্তিক ইচ্ছা বিন্দুকে টেনে আনে এ প্রতিযোগিতার শীর্ষ তিন এর
কাতারে।
এর পরের গল্প তো সবারই জানা। প্রথম রানারআপের মুকুট পরা হাস্যোজ্জ্বল
বিন্দুকে মঞ্চে দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন ‘মেয়েটির মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে।’
আর এ
সম্ভাবনার রাস্তা ধরেই ধীর পায়ে এখন হেঁটে চলেছেন তিনি। লাক্সে প্রতিযোগিতার পর
হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবিতে অভিনয় করেন বিন্দু।
ধনী বাবার আহাদি মেয়ের চরিত্রে নিজেকে মানানসই রূপেরই উপস্থাপন করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনেও বিন্দুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা
যায়।
তবে বুদ্ধিমতী বিন্দু কখনোই গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেননি। ফলে ভুরি ভুরি
কাজের নয় বরং নির্বাচিত কিছু কাজের মাধ্যমেই মিডিয়া উপস্থিতি বলবৎ করেন তিনি। এ
প্রসঙ্গে বিন্দুর ভাষ্য হচ্ছে, ‘বার বার টিভি স্ক্রিনে নিজেকে দেখানোর চেয়ে ভালো
একটি কাজ নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হওয়াটাই গুরুত্ব পায় আমার কাছে। এছাড়া আমি
যেহেতু পড়াশোনা করছি।
তাই পড়াশোনাটাকে অবশ্যই
সবার আগে গুরুত্ব দিতে চাই।’ ভালো কাজের প্রতি ভালোবাসার টানেই বিন্দু সম্প্রতি
পারফর্ম কররেন বাংলালিংক দেশ এর নতুন টিভিসিতে। নীরব, ইমন ও মোনালিসা এ ত্রয়ীর
সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে সম হয়েছেন বিন্দু এ
বিজ্ঞাপনে। এ প্রসঙ্গে বেশ গুছিয়ে বিন্দু বললেন, ‘আমার জন্য নিঃসন্দেহে বড় একটি
সুযোগ ছিল এ বিজ্ঞাপনটি। তবে ভালো কাজের প্রতি মানুষের আশা-আকাঙ্খা বেশি থাকে।
সেদিক বিবেচনা করলে দর্শকদের আশা বা চাহিদা কতখানি পূরণ করতে পেরেছি তা
দর্শকরাই ভালো করে বলতে পারবেন’। বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানতে
চাইলে এক চিলতে হাসি দিয়ে বিন্দু যা বলেন তার সারমর্ম হচ্ছে, মজার অভিজ্ঞতার
চেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতাতেই ভরে উঠেছে বিন্দুর অভিজ্ঞতার ঝুলি।
কারণ বেশির ভাগ
শুটিংই করতে হয়েছে রোদের মধ্যে। রোদে পুড়ে এতটাই কালো হয়ে গেছেন যে আজকাল
অনেকেই চিনতে পারছেন না তাকে। তবে রোদে পোড়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া বাদবাকি সবই
ছিল বিন্দুর জন্য অনেক পজিটিভ। ইন্ডিয়ান কোরিওগ্রাফারের তত্ত্বাবধানে নাচের
অনুশীলন করেছেন ফলে নাচ শিখতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।
বিন্দুর মতে, গোটা
টিমটাই অনেক হেল্পফুল ছিল। টিম ওয়ার্ক ছিল অনেক ভালো। এতো গেল বিজ্ঞাপনের
খবরাখবর এবার প্রসঙ্গ অভিনয়। বর্তমানে বেশ কিছু এক ঘন্টার নাটকে অভিনয় করলেও
আপাতত ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন না তিনি। এর পেছনের কারণ একটাই।
তা হলো পড়াশোনা,
পড়াশোনা থেকে চাপ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত একটু রয়ে সয়েই অভিনয় করতে চান তিনি।
ধারাবাহিকের মতো নতুন চলচ্চিত্রেও এখনই অভিনয় করবেন না। পড়াশোনা গোছানোর
প্রক্রিয়া শেষ হলে চলচ্চিত্রের মাধ্যমটিতে সফলতার স্বাক্ষর রাখার ইচ্ছা পোষণ
করেন বিন্দু।