|
শুধু টেলিভিশন মিডিয়াই নয়, মঞ্চ নাটক, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন ও উপস্থাপনাসহ অপি
করিমের উপস্থিতি সর্বত্র শুধু নন্দিতই হয়নি, সময়ের আবর্তে হয়েছে অনুকরণীয়।
আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছে থেকে তিনি ছুটে চলেছেন শোবিজের প্রায় সব আঙ্গিনায়। অভিনয় প্রতিভা
দিয়ে ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছেন। সবখানেই তিনি সাবলীল।
প্রকৃতির অকৃপণ রূপ যেমন তার অঙ্গ সৌষ্ঠবে তেমনি মেধার উচ্ছ্বাস তার সারাবেলার
প্রাণবন্ত পথ চলায়। নাচ দিয়ে অপির স্বপ্নের রঙিন দুনিয়ায় পদচারণা শুরু। আর তার
নাচের প্রতি আগ্রহ জন্মে খালাদের নাচতে দেখেই। বড়বোনের সঙ্গে তিন বছর বয়সেই
বুলবুল ললিতকলা একাডেমির ওয়াইজঘাট শাখায় ভর্তি করানো হয় অপিকে।
তাকে বাসায় তালিম দিতেন নীরঞ্জন শাহ। মোহাম্মদপুরে আসার পর বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর
ধানমন্ডি শাখায় ভর্তি হন তিনি। ক্লাস সিক্সে পড়াকালীনই শুরু হয় শিবলী মহম্মদের কাছে
নাচ শেখা। অপি এ সম্পর্কে বলেন, আমার নাচের মৌলিকত্ব আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছি।
তিনি
আমাকে তার নাচের অনেকটাই ধরে ধরে শিখিয়েছেন।
১৯৯৫ সালে মডেলিং জগতে অপির আগমন ঘটে আফজাল হোসেনের হাত ধরে হোয়াইট প্লাস
টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। তারপর কিছু বিরতি।
৯৯ সালে লাক্স-আনন্দধারা
ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় মেয়ের ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণের জন্যই ছবি পাঠিয়ে দেন অপি
করিমের মা। ফলাফল- অপি করিম লাক্স আনন্দধারা মিস ফটোজেনিক ৯৯।
এরপর চারবার লাক্সের মডেল হন অপি। মাত্র আড়াই বছর বয়সে তিনি নাটকের বোদ্ধাদের মন
কেড়েছিলেন।
সেই বয়সে তিনি জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক
সকাল সন্ধ্যায় পারুলী চরিত্রে
অভিনয় করেছিলেন। এরপর অপি করিম অভিনয় করেন শুকতারা ও আপনজন ধারাবাহিক নাটকে।
সকাল সন্ধ্যা
নাটকে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অপি করিম বলেন, ওই নাটকে আমরা দুবোন অভিনয়
করতাম।
পরিচালক আমাকে প্রতিটি দৃশ্য সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয়ে বুঝিয়ে দিতেন। এ
নাটকটির আমাকে ভবিষ্যতে নাটকে অভিনয়ের সিঁড়ি দিয়ে অনেক দূর নিয়ে গেছে। টিভি নাটকের
কাজের চাপে অনেকেই মঞ্চ থেকে দূরে সরে গেলেও অপি করিম তা করেননি।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়-এর
রক্তকরবীর নন্দিনী তিনি। এ কথা ভোলেন না কখনো। তার কথায়,
মঞ্চে আমি অভিনয় শিখি। আর টিভি নাটকে অভিনয় করি। মঞ্চের প্রতিটি বিষয় আমার কাছে
অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি অপি করিম
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়-এর হয়ে আবারও নতুন রূপে
মঞ্চে এসেছেন অপেক্ষমাণ নাটকের মাধ্যমে।
এটি লিখেছেন সৈয়দ শামসুল হক ও নির্দেশনা দিয়েছেন আতাউর রহমান। ইবসেন-এর
ঈর্ষা, ডলস
হাউস ও এনিমি অব দি পিপল
এই তিনটি থেকে ৬টি চরিত্র নিয়ে এই নাটকটি রচিত হয়েছে।
নাটকটির ঈর্ষার যুবতী,
ডলস হাউস-এর নোরা এই দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপি।
রক্তকরবীর নন্দনী
ও নাট্যত্রয়ীর দেবযানীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
অভিনেত্রীদের মধ্যে যারা উপস্থাপনা করে সফলতা পেয়েছেন, অপি করিম তাদের মধ্যে অন্যতম।
বাংলাভিশনে প্রচারিত
আমার আমি অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা
পেয়েছেন। পরে একুশে টেলিভিশনের
আয়না ঘরও তার জনপ্রিয়তাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
শোবিজের এই জনপ্রিয় তারকার সম্পর্কে ভক্তদের অনেক অভিযোগ শোনা যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে
বড় অভিযোগ হলো তিনি একেবারেই নাটক কমিয়ে দিয়েছেন। উপলক্ষ ছাড়া কোন নাটকে এখন আর তাকে
দেখা যায় না। কিছু নির্মাতা ছাড়া অন্যদের কাজ করেন না তিনি। এ বিষয়ে তিনি জবাবদিহি
করেছেন।
তিনি এ অভিযোগগুলোর উত্তরে বলেছেন, আসলে আমি অভিনয়কে ভালবাসি। এজন্য বিভিন্ন উপলক্ষে
টিভি নাটকটা চালিয়ে যাচ্ছি। মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছি। একটি বেসরকারি
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার করি। এর বাইরে যে সময়টা পাই সেই সময়টুকুতে চেষ্টা করছি
অভিনয়টা চালিয়ে যাওয়ার।
মিডিয়া অঙ্গনের বিভিন্ন মাধ্যম আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আর আমাকে
সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ করেছে মঞ্চ। আমার অভিনয়ের মূলমন্ত্র পেয়েছি এখান থেকেই। এ জন্য
মঞ্চে তুলনামূলক বেশি নিয়মিত আমি।
|