|
প্রতিমাসে পিরিয়ড যেকোনো মেয়ের জীবনে একটি সাধারন ঘটনা। আর এর
জন্য চাই কিছু সুরক্ষা। মেয়েলি সুরক্ষা হলো স্বাস্থ্যকর
উপায়ে তৈরি স্যানিটারি ন্যাপকিন যা পিরিয়ডের সময় নির্গত ফ্লুইড
শোষণ করে তোমাকে রাখে শুষ্ক, পরিচ্ছন্ন ও ঝরঝরে।
পিরিয়ডের সময়
স্বাস্থ্যসম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য
তোমার অবশ্যই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা উচিত।
বাজারে ভিন্ন ভিন্ন সাইজ এবং শোষণ
ক্ষমতাসম্পন্ন স্যানিটারি ন্যাপকিন
পাওয়া যায়। তোমার প্যান্টির পেছনে ন্যাপকিনের আঠাযুক্ত অংশটি লাগিয়ে
ন্যাপকিনটি পরতে পারো।
তোমার আশপাশের ওষুধের দোকান, সুপার মার্কেট,
বড় বড় জেনারেল স্টোরে স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়। দোকানে গিযে
স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার ব্যাপারে তোমার অস্বস্তিতে পড়ার প্রয়োজন
নেই কারণ সব মেয়েরই এটা প্রয়োজন হয়। প্রথম সময়ের জন্য কিনতে কেউ
কেউ মা অথবা বোনের সাহায্য নেয়।
কার কাছে তুমি সাহায্য চাইবে?
কেউ কেউ পুরনো কাপড়, তুলা, টিস্যু পেপার পছন্দ করে। আমরা তোমাকে
পরামর্শ দেব স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করার জন্য। পরামর্শের
প্রয়োজন হলে তুমি তোমার মা, তোমার বড় বোন বা টিচারের সঙ্গে কথা বলতে
পার।
স্কুলে তুমি প্রস্তুত থেকো
মেয়েদের সাধারণত হঠাৎ করেই পিরিয়ড হয়ে যায়, যদিও ঘটনাটি তার জন্য
প্রথমবার নাও হতে পারে। খুব ভালো হয় যদি তুমি তোমার ব্যাগে একটি
স্যানিটারি প্যাড এবং এক জোড়া পরিষ্কার প্যান্টি রাখো অথবা এগুলো
তুমি তোমার স্কুলের লকারেও রাখতে পার।
কাছাকাছি ন্যাপকিন না থাকলে
যতক্ষণ না পর্যন্ত ন্যাপকিন না পাও, তুমি টয়লেট পেপার অথবা টিস্যু
ব্যবহার করতে পার। তোমার বন্ধু, স্কুলের আয়া অথবা টিচারের সাহায্য
নিতে পার। তোমার প্যান্টিতে হঠাৎ করে দাগ লেগে গেলে টয়লেটে গিয়ে
ঠান্ডা পানি ও সাবান দিযে ধুয়ে ফেলো। মনে রেখো, সব মেয়েই এ ব্যাপারে
জানে এবং কেউ তোমাকে সাহায্য না করে পারবে না।
স্যানিটারি প্যাড
স্যানিটারি প্যাড পিরিয়ডের স্বাভাবিক ও অতিরিক্ত প্রবাহের দিনগুলোতে
তোমাকে শুষ্ক, পরিচ্ছন্ন ও ঝরঝরে রাখবে।
কিভাবে তুমি তোমার প্যাড পছন্দ করবে?
প্রতিটি মেয়েরই দেহের আকৃতি এবং পিরিয়ড এর ধরণ আলাদা। এ জন্য বাজারে
বিভিন্ন সেপ, সাইজ এবং প্রবাহের উপযুক্ত প্যাড পাওয়া যায়। বাজারে
মোটা, পাতলা, রেগুলার সাইজ, হেভি ফো সাইজ, উইংস, ছাড়া প্যাড পাওয়া
যায়।
আজকালকার পাতলা প্যাডগুলো মোটা প্যাডের মতোই সুরা দেয় কিন্তু
এগুরো টিনএজ মেয়েদের জন্য বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
অতিরিক্ত প্রবাহের দিনগুলোতে তোমার সাইড লিকেজ থেকে সুরা এবং
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয় যা তুমি উইংসযুক্ত প্যাড থেকে
পেতে পার।
রাতে ঘুমানোর সময় তোমার দেহের অনেক বেশি নড়াচড়ার দরকার
হয় বলে এই সময় বেশি সুরক্ষার প্রয়োজন হয়। তাই এ সময় তোমার জন্য একটু
বেশি লম্বা-চওড়া প্যাড দরকার।
কতক্ষণ পরপর প্যাড পরিবর্তন করা উচিত?
প্রতি ৬-৭ ঘন্টা পর পর প্যাড পরিবর্তন করা উচিত। অতিরিক্ত প্রবাহের
সময় এটি বার বার পরিবর্তন করা উচিত। কতক্ষণ পর পর তুমি প্যাড
পরিবর্তন করবে এটা তুমি কি ধরনের প্যাড ব্যবহার করছ সেটার উপরও
নির্ভর করে। অনেকক্ষণ একটি প্যাড পরে থাকলে প্যাডটি লিক করতে পারে।
কিভাবে একটি প্যাড ব্যবহার করবে?
১. প্যাডটি এর কবার থেকে বের করে নাও।
২. প্যাডের পেছনের স্টিকার পেপারটি তুলে ফেলো এবং ন্যাপকিনের নিচের
দিকের আঠালো অংশটি প্যান্টির পেছনে শক্ত করে লাগিয়ে নাও।
৩. উইংসযুক্ত ন্যাপকিনের ক্ষেত্রে ন্যাপকিনের নিচের দিকের আঠালো
অংশটি প্যান্টির পেছনে লাগানোর পর উইংস দুটি প্যান্টির পেছনে দুই
পাশে দৃঢ়ভাবে লাগিয়ে দাও।
প্যাডটি ব্যবহারের পর কি করবে?
১. ব্যবহারের পর প্যাডটি একটি কাগজে বা টিস্যু অথবা টয়লেট পেপারে
মুড়ে ডাস্টিবিনে ফেলো।
২. ব্যবহারের পর প্যাডটি প্যানে বা কমোডে ফেলবে না।
৩. সবশেষে তোমার হাত দুটো সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলো।
অনেকক্ষন একটি প্যাড ব্যবহার
না করাই ভালো। এতে করে এ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনে রাখতে
হবে এই সময়ে অন্য সময়ের চাইতে অনেক বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে
হবে। তাইলেই তুমি নিশ্চিত করতে পারবে তোমার সুস্বাস্থ্য।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেনে রাখ
১. বেশি টাইট জিন্স বা এধরনের কাপড় পরলে তা স্বাভাবিক বাতাস চলাচলে
সমস্যা করে। এত করে যোনিমুখে বাজে গন্ধ হতে পারে।
২. ঘুমের সময় এই কারনেই প্যান্টি ব্যবহার করা উচিৎ না।
৩. সিনথেটিক কাপড় ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয় এবং এতে করে ত্বকে
ইনফেকশন এবং বাজে গন্ধ হতে পারে। তাই সব সময় ১০০% সুতি বা সিল্কের
প্যান্টি ব্যবহার করতে হবে।
৪. পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে খুব বেশি সময় ধরে একটি প্যাড ব্যবহার করা
উচিৎ না।
পিরিয়ডের দিনগুলো বা অন্য সময়েও এই বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখলে
নিজেকে অনেক বেশি জীবানুমুক্ত এবং সুরক্ষিত রাখা যাবে। |