|
তারুণ্য |
|
সময় বদলের জীবনধারা |
 |
|
ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে,
শীতের দিন শেষ। কিন্তু এর রেশ এখনো রয়ে গেছে। বিশেষত গভীর রাতে
বা ভোরে শীত অনুভূত হয়। তাই যারা কোথাও বেড়াতে যাবেন বা গভীর রাতে
বাড়ি ফিরবেন, তারা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন হালকা শীতের পোশাক। এ সময়
শেষরাতে ঠান্ডা একটু বেড়ে যায়। তাই হাতের কাছে ব্লাঙ্কেটটি রাখুন।
দিনে রোদের তেজও থাকবে বেশ। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সঙ্গে রাখুন
একটি ফ্যাশনেবল ছাতা। ধুলো-বাতাস থেকে রেহাই পেতে ব্যবহার করুন
মাস্ক, ক্যাপ, হ্যাট বা কার্ফ। আর ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে শুধু নয়,
চোখের সুরক্ষায়ও রোদ চশমা তো সঙ্গে থাকছেই।
এ সময় সুতির পোশাকই আরামদায়ক। গাঢ় রঙ এড়িয়ে হালকা বা সাদা পোশাক
পরুন। ফুল স্লিভের বদলে পরতে পারেন হাফ স্লিভ পোশাক। বাইরে
বেরুবার আগে ডিওডর্যান্ট বা বডি স্প্রে ব্যবহার করুন। আর
ব্যবহৃত পোশাক জমিয়ে না রেখে লন্ড্রিতে পাঠিয়ে দিন দ্রুত। এতে
সাদাটে, ধূসর বা কালো ছিটে কিংবা দাগ থেকে পোশাক রক্ষা পাবে।
ঘাম নিঃসৃত হওয়ার জন্য তো বটেই, শরীর সতেজ রাখতে পানি পানের
পরিমাণটা বাড়িয়ে দিন। আর খাবার-দাবারেও একটু সতর্ক হোন। এ সময়
অবশ্য অনেকেই শীতের তাজা সবজির জন্য হাপিত্যেশ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে কাঁচা আম ও কুলের উপস্থিতি কিছুটা স্বস্তি তাদের দিতে
পারে। তবে একটু ভেবেচিন্তেই খাবেন।
এই মৌসুমে বেশ কিছু রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। সবার আগে অসে পেটের
সমস্যা। বাইরের ধুলো-ময়লাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। ডাবের পানি ও
তাজা ফলের জুস খান। সঙ্গে রাখুন রসালো ফলও।
মাথাব্যথা, সর্দি-জ্বর, কাশির কিছু ওষুধ বাসায় রাখুন। তাৎক্ষণিক
কাজে আসতে পারে। আর চিকেন পক্স থেকে রেহাই পেতে নিন ভ্যাকসিন।
দিন দিন গরম বাড়বে। তাই বাসার সিলিং ও স্ট্যান্ড ফ্যান এবং এয়ার
কন্ডিশনার ম্যানেজমেন্টে কদিন একটু ব্যস্ত থাকুন। শীতের কারণে এত
দিনের বন্ধ রাখা জানালাগুলো খুলে দিন। ভ্যাপসাভাব থেকে মুক্তি
পাবেন। বাতাসের চলাচলে ঘরে আরামবোধ হবে আপনার। তবে মনে রাখুন, এটি
ধুলোর মৌসুম। নিয়মিত ঘর-বারান্দা ঝাড় দিন, মেঝে পরিষ্কার রাখুন।
দিনের দৈর্ঘ্য ক্রমশ বাড়বে। তাই টাইম অ্যান্ড ওয়ার্ক
ম্যানেজমেন্ট নিয়ে একটু মাথা ঘামান। কারণ ট্রানজিশনের সঙ্গে
মানিয়ে চলতে না পারলে কঠিন হয়ে পড়বে প্রাত্যহিক জীবন।
এ সময় লোডশেডিংয়ের কথা ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না। আগাম প্রস্তুতি
না থাকলে বেশ ঝামেলায় পড়তে হবে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে হাতের কাছে
রাখুন দেশলাই ও মোমবাতি। বাথরুমে পর্যাপ্ত পানি জমিয়ে রাখুন।
বিশেষ নজর রাখুন বয়স্ক ও শিশুদের প্রতি।
ঊাড়ির লন, বারান্দা বা ছাদে যদি বাগান থাকে, তাহলে গাছের পরিচর্যা
করুন। খেয়াল রাখুন শকের টবের দিকেও। নিয়মিত গাছে পানি দিন। পোষা
প্রাণী থাকলে ওদের প্রতিও যত্ন নিন। নিজের যত্ন নিতে ভুলবেন না
একদম। প্রতিদিন গোসল করুন, হালকা গরম পানি দিয়ে।
এমন বসন্তে কোথাও ঘুরতে গেলে কিন্তু মন্দ হয় না। কদিনের ছুটি নিয়ে
ঘুরে আসুন। যেতে পারেন গ্রামের বাড়িতেও। দেখবেন, বসন্ত কী
দারুণভাবে ধরা দিচ্ছে। বেড়ানোটা নিশ্চয়ই বেশ উপভোগ্য হবে। |