|
ওগো অপরূপা... |
 |
লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার মেহজাবীনের স্বপ্নগুলো এখন
ডালপালা ছড়িয়েছে। তার জীবনে লেগেছে নতুন রঙ আর শিল্পের এই
রঙে মেহজাবীন রাঙাতে চান তার ভক্তদের। তাদের উপহার দিতে
চান ভালকিছু কাজ।
তারকা হওয়ার পর অনেকেরই আচরণ পাল্টায়। কিন্তু মেহজাবীন
একটুও বদলান নি।
এখনো ঠিক আগের মতোই আছেন। ভক্তরা ফোন করলে তিনি বিরক্ত হন
না বরং হাসিমুখেই কথা বলেন। নিজেকে সবসময়ই বিনয়ের পথে
রাখার এই শিক্ষাটা তিনি তার পরিবার থেকেই পেয়েছেন। তারকা
হবার আগের এবং পরের গল্প নিয়ে মেহজাবীন বলেন, সত্যি বলতে
কী, আমি সবসময়ই নিজেকে মানুষ হিসেবে দেখি।
তারকা হয়েছি বলেই একটু ভাব নিতে হবে এটা আমি মনে করি ঠিক
নয়। আমি সবার কাছে নিজেকে একজন মানুষ হিসেবেই তুলে ধরতে
চাই। লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা আমাকে তারকা
বানিয়েছে, আমি এর যথাযথ মূল্যায়নও করতে চাই।
কখনো চাইনা আমার কোনো আচরণে আমার ভক্তরা কষ্ট পাক। কারণ
তারা আমাকে ভোট দিয়েই আজকের মেহজাবীন বানিয়েছেন। আমি
সত্যিই আমার ভক্তদের সবার সঙ্গে কথা বলতে চাই। তারা আমাকে
কৃতজ্ঞতার বাহুডোরে বেঁধেছেন।
তারা আমাকে যা দিয়েছেন, আমিও তাদের এর প্রতিদান দিতে চাই।
যখন কেউ ফোন করে আমাকে নিয়ে তার ভালোলাগার কথা প্রকাশ করেন
আমি সত্যিই মুগ্ধ হই। কখনো বিরক্তি প্রকাশ করি না। আমি মনে
করি বিরক্তি আসাটাও ঠিক নয়।
সবার কাছে দোয়া চাই সবসময়ই যেন এই ভাবনার মতোই আমি চলতে
পারি। একটু দম নিয়ে মেহজাবীন বলেন, আসলে লাক্সের ক্রাউনটা
পরার পর আমার সাথে এখনো কারো তেমন দেখা হয়ে ওঠেনি। বলা যায়,
আমি আমার পরিবারের গণ্ডিতেই আছি।
আর নিজের এই জগতে আমি আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমনি আছি। তবে
ভক্তদের সঙ্গে এখনো কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হলেও আমার
বন্ধুদের সঙ্গে খানিকটা হয়েছে। দেখা গেল আমার কোনো বন্ধু
আমাকে ফোন করেছে। সেসময় হয়তো আমি কোনো কাজে ব্যস্ত ছিলাম।
তাই ফোন ধরা হয়নি।
পরে যখন তাকে কল ব্যাক করি তখন সে বলে বসে, ও সরি, আমার
খেয়ালই ছিল না যে, আমাদের মেহজাবীন এখন স্টার। আমাদের ফোন
ধরার সময়কি এখন তার আছে? আমি যখন ওদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলি,
তখন ঠিকই ওরা বুঝে নেয়। এই একটু আধটু সমস্যা হয় আর কী
বন্ধুদের সাথে।
 |
যার জন্য এত দূর
মেহজাবীনের জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে দেশের
বাইরে। ওমান-এ তার জীবনের কিছু সোনা ঝরা দিন ছিল।
অ্যারাবিয়ান কালচারের সঙ্গে তার অনেক সখ্যতা গড়ে
উঠেছিল। সেদেশের সংস্কৃতির পথে তিনি হেঁটেছিলেন
অনেকদিন। |
কিন্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতি যে তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতো তা
বোধহয় তিনি বুঝতেই পারেননি। মেহজাবীন বলেন, আমি ছোটবেলা
থেকেই সংস্কৃতিপ্রেমী ছিলাম। স্টেজে নাচ এবং অভিনয় করার
অভিজ্ঞতা আমার ছিল।
আমার সংস্কৃতির পথের এই যাত্রায় বরাবরই আমি আমার পরিবার এবং
টিচারদের কাছ থেকে দারুণ উৎসাহ পেয়েছি। লাক্স চ্যানেল আই
সুপার স্টার ২০০৯-এ অংশ নেয়ার জন্য প্রথম উৎসাহটা পাই আমার
পরিবারের কাছ থেকে। আমিও খানিকটা কনফিডেন্ট ছিলাম। আমার
বিশ্বাস ছিল আমি জয়ী হবো।
আবার একবার ভেবেছি যদি জয়ী হতে নাও পারি এ প্রতিযোগিতায়
অংশ নিয়ে নতুন কিছুতো অর্জন করতে পারবো। আমার বাবা দেশের
বাইরে থাকেন বলে আমার মা-ই আজকের অবস্থানের জন্য অনেক
অবদান রেখেছেন। আমি ক্রেডিটটা দিতে চাই আমার মাকেই।
ক্যাম্পের সোনালী দিনগুলো
লাক্সের ক্যাম্পে থাকার দিনগুলো মেহজাবীনের কাছে অন্যতম
শ্রেষ্ঠ সময়। এখান থেকেই অনেক কিছু অর্জন করেছেন এই রূপসী
কন্যা। ক্যাম্পের সোনালী সেই দিনগুলোর গল্প নিয়ে মেহজাবীন
বলেন, ক্যাম্পের দিনগুলো কখনো ভোলা যাবে না। ওখানে আমরা
অনেক কিছু শিখেছি।
বিশেষ করে গ্রুমিং সেশনটা ছিল চমৎকার। এরফলে আমাদের
কনফিডেন্স আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আর এই অভিজ্ঞতা
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগবে বলে
আমি মনে করি। টাইম সেন্স, ডিসিপ্লিন এর ব্যাপারে আমি
বরাবরই সচেতন ছিলাম। লাক্সে আসার পর সেই সচেতনতা আরো
জোরদার হয়েছে।
স্বপ্নের গল্প
মেহজাবীনের এখনকার পথচলা শুরু হয়েছে ভাল একজন অভিনেত্রী
হওয়া নিয়েই। অভিনয় করা নিয়ে তারমধ্যে একটা সংশয় কাজ করেছিল।
তিনি মনে করতেন, আমি কখনোই অভিনয় করতে পারবো না।
কিন্তু এ প্রতিযোগিতার একটি পর্বে খ্যাতিমান অভিনেত্রী
সুবর্ণা মুস্তাফা যখন মেহজাবীনের অভিনয় দেখে বলেন, তুমি
পারবে বড় অভিনেত্রী হতে। আর প্রিয় শিল্পীর এই কমেন্ট
মেহজাবীনের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তার কথায়, আমি জানি
একজন ভাল অভিনেত্রী হওয়ার জন্য অনেক সাধনার দরকার হয়।
আমি প্রস্তুত এই শ্রমের পথে হাঁটতে। এরমধ্যে মেহজাবীন
লাক্সের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। এতে কাজ করা নিয়ে তিনি
বলেন, লাক্সের বিজ্ঞাপনে কাজ করার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে।
আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এটা আমার জন্য বড় একটি বিষয়।
|