|
রূপচর্চা |
|
সন্ধিসময়ের
সৌন্দর্য সমাধান |
 |
|
ক্লিনজিং
ত্বকের যত্নে এটি বেশ কার্যকর। মাইন্ড ক্লিনজার খুবই ভালো।
ক্লিনজার ত্বকে জমে থাকা ধুলো-ময়লা, তেল পরিষ্কার করে আর্দ্রতা
ধরে রাখে। দিনে মুখে দু-তিনবার পানির ঝাপটা দিন। সকালে ঘুম থেকে
উঠে এবং দিন শেষে ভেজা তুলোতে ক্লিনজারে মুখ পরিষ্কার করুন।
তৈলাক্ত ত্বক হলে অবশ্যই ক্লিনজার দিয়ে সকালে মুখ ধোবেন। দুধে
পাউরুটির স্লাইস বা আটারুটি ভিজিয়ে হালকা করে মুখে ঘষুন। তারপর
ধুয়ে নিন। এতে মুখ ত্বকের ধুলো-ময়লা ও তৈলাক্ত ভাব দূও হবে। এছাড়া
মাস্ক বা প্যাক লাগাতে পারেন। সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
টোনিং
মুখ পরিষ্কারের পর টোনার বা অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ব্যবহার করুন।
বসন্তে বিশেষ প্রয়োজন টোনারের। এটি ত্বকের পি-এইচ ব্যালেন্স ঠিক
রাখে এবং লোমকুপে জমে থাকা ধুলোবালি দূর করে। শুষ্ক ত্বকে টোনার
ব্যবহার করা ঠিক নয়। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরে শসার
ঠান্ডা জুস মুখে লাগান। ফ্রেশ লাগবে।
ময়েশ্চারাইজার
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
স্বাভাবিক ও তৈলাক্ত ত্বকে ওয়াটার বেইজড আর শুষ্ক ত্বকে অয়েল
বেইজড ময়েশ্চারাইজার ভালো। ভেজা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগান।
*_* গ্লিসারিন, গোলাপজল ও লেবুর রস সমপরিমাণ মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন।
এটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো।
*_* শুষ্ক ত্বকে গ্লিসারিন ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিযে লাগান।
*_* এক চা চামচ মধু, দই চা চামচ দই ভালোভাবে মিশিযে মুখে ৫ মিনিট
লাগিয়ে রাখুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি স্বাভাবিক ত্বকে
বেশ কার্যকর।
স্ক্র্যাবিং
স্ক্র্রাব ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়ে ওঠে। যদের ত্বক
সেনসিটিভ, তাদের জন্য স্ক্র্যাবিং উপযুক্ত নয়। বাজারে নানা ধরনের
স্ক্র্যাব পাওয়া যায়। এছাড়া ঘরোয়া উপায়ে তৈরি স্ক্র্যাব ব্যবহার
করতে পারেন।
*_* শুষ্ক ত্বকে ১ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে অর্ধেকটা লেবুর রস,
আধা চা চামচ হলুদ, আধা চামচ বেকিং সোডা, ১ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে
গোসরের অগে মুখ, হাত-পাসহ পুরো শরীরে লাগিয়ে ৫ মিনিট ম্যাসাজ
করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিযে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
*_* তৈলাক্ত ত্বকে ১ টেবিল চামচ দই, আধা চা চামচ বেসন ও একটি
লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
*_* স্বাভাবিক ত্বকে লেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে ম্যাসাজ করুন। শুকিয়ে
গেলে পানি দিয়ে ধুযে ফেলুন।
ব্লিচ
লেবু, ভিনেগার ও হলুদের মিশ্রণ ত্বকের গোড়া দাগ দূর করে। সপ্তাহে
একবার ব্যবহার করুন। ত্বকের উজ্জ্বলা ফিরে আসবে।
*_* স্বাভাবিক ও তৈলাক্ত ত্বকে ১ টেবিল চামচ শসার রস, ১ টেবিল
চামচ লেবুর রস ও সামান্য হলুদবাটা ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান।
শুকিযে এলে ধুয়ে নিন।
*_* ১ চা চামচ ঘন ক্রিম, ১ চা চামচ লেবুর রস, সামান্য হলুদ ও বেকিং
সোডা মিশিয়ে শুষ্ক ত্বকে লাগান। ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে।
ফেসিয়াল ও ফেসপ্যাক
ফেসিয়াল ও প্যাক ত্বক পরিষ্কার ও সজীব রাখে। ত্বকের ধরন বুঝে মাসে
একবার ফেসিয়াল করুন। এছাড়া সপ্তাহে একবার ঘরোয়া প্যাক লাগাতে
পারেন।
মধুর প্যাক
ত্বকের পুষ্টি জোগাতে ও বয়সের ছাপ দূর করতে এই প্যাক বেশ
উপযোগী। ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ ওটমিল, ১ ফোঁটা লেবুর
রস ও ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। ১৫ মিনিট
পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। ঘুমাতে যওয়ার আগে এই প্যাকটি লাগালে
ভালো ফল পাবেন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন এটি লাগান।
স্ট্রবেরি প্যাক
প্যাকটি ত্বকের পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও ফ্যাকাসে ভাব দূর করে।
দুই টেবিল চামচ পানির সঙ্গে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও স্ট্রবেরি
ক্বাথ মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
এটি লাগান সপ্তাহে ১ দিন। অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
কলার প্যাক
বাইরে বেরুনোর আগে এই প্যাকটি লাগান। এটি ত্বকে ভিটামিনের
কাজ করে। কলার ক্বাথ, অলিভ অয়েল ও ১ ফোঁটা লেবুর রস ব্লেন্ড করে
নিন। মুখে ও গলায় লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর ধুযে ময়েশ্চারাইজার
লাগান।
পানির প্যাক
ত্বকের মরা চামড়া তুলতে প্যাকটি বেশ কার্যকর। এ ছাড়া এটি
ক্যালসিয়ামের কাজ করে। প্যাকটি সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করুন। ১
টেবিল চামচ মিহি পনির, ১ টেবিল চামচ ঘন ক্রিম ও ২ চা চামচ বাটা
আমন্ড মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট রাখুন্ এবং ম্যাসাজ করুন। ধুয়ে
ময়েশ্চারাইজার লাগান।
রোদ এড়িয়ে চলুন
আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বক বাঁচান। নইলে বলিরেখা, স্পট,
অ্যালার্জি, র্যাশ ইত্যাদি সমস্যা ত্বকে দেখা দিতে পারে।
কমপ্লিট সান প্রটেকশনের জন্য বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে
বাইরে যাওযা কমিয়ে দেওয়াই ভালো। এসপিএপ-৩০ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন
ব্যবহার করুন। ওয়াটার প্র“ফ সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন। বের
হওযার ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন।
হাত ও পায়ের যত্ন
ত্বকের মতো হাত ও পায়ের নিয়মিত যতœ নিন। সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল
গরম করে আঙুলে লাগান। আঙুল নরম ও মসৃণ থাকবে। এছাড়া ত্বক খসখসে
হলে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ মধু ও ১ চা চামচ চিনি
মিশিয়ে হতে লাগান। তারপর ধুয়ে নিন। পয়ের ত্বক ভালো রাখার সবচেয়ে
উত্তম উপায় বারবার পা ধোয়া স্ক্র্যাবার ও সাবান দিয়ে নিয়মিত পা
পরিষ্কার করুন। এ মৌসুমে পায়ে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ৬ চা
চামচ নারকেলের দুধের সঙ্গে ১ চা চামচ লবঙ্গগুঁড়া, ১ চা চামচ
আদাবাটা, ৫/৬ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল ও এশমুঠো গোলাপের পাপড়ি
ব্লেন্ড করে পায়ে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। শুকাতে ভুলবেন
না। এছাড়া মাসে একবার পেডিকিওর ও মেনিকিওর করুন। |