|
ঈশিতা এখন যেমন |
 |
|
ঈশিতা সব সময়ই ব্যস্ত। হোক তা পারিবারিক জীবনের কিংবা কর্মজীবনের রুটিন বাঁধা কাজ,
তা সঠিকভাবে মেনে চলার ব্রত নিয়ে যেন ঈশিতার ব্যস্ততা। তাকে যে আজকের মতো ব্যস্ত
মানুষে পরিণত হতে হবে তা দুই যুগ আগ থেকেই বোঝা গিয়েছিল।
কেননা শৈশব-কৈশর থেকেই
ঈশিতা হয়ে উঠেছিলেন মেগা স্টার।
যদিও ক্ষুদে তারকা তবুও মেগা তারকাই বলা যায়। নাচ, গান, অভিনয় কিসে সফল নন তিনি? এ
প্রশ্নের উত্তর দেয়াটাই এখন কঠিন। যে কাজটা বাকি ছিল তা হল কাহিনীকার ও নির্মাতার
খেতাব অর্জন করা।
সে শূন্যতাটুকুও তিনি পূরণ করেছে একাধিক নাটক ও নৃত্যানুষ্ঠানের
গ্রন্থনা ও পরিচালনার মধ্য দিয়ে।
সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ঈশিতা সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে উঠেছেন আরেক উজ্জ্বল তারকা।
চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ ০৮
সঙ্গীত প্রতিযোগিতার সহকারী প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব
পালন করছেন তিনি।
আর এ প্রকল্পের যিনি পরিচালক তিনিও যেন-তেন কেউ নন। তিনি হলেন
খ্যাতিমান নির্মাতা ও অভিনয় শিল্পী আফজাল হোসেন।
সঙ্গীত প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ
সময়ে নির্মাতা হিসেবে আলাদা কিছু করার সুযোগ পাচ্ছেন না ঈশিতা।
কেবল তাই নয়,
নির্মাণের ব্যস্ততায় অনেকটা ভুলতেই বসেছেন যে তিনি নিজেও একজন কণ্ঠশিল্পী। যার এ
পর্যন্ত ৪টি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঈশিতা বলেন, নানা ব্যস্ততার
কারণে গান নিয়ে তেমন কিছু করার সুযোগ হয়ে উঠছে না।
নাচের ক্ষেত্রেও অনেকটা সে রকমই বলা যায়। যদিও বিশেষ দিনগুলোকে উপল করে নৃত্যানুান
নির্মাণের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি নাচের
ক্ষুধাটা নিবৃত্তি করার। তবে কাজের সংখ্যা কম হলেও
অভিনয়টা নিয়মিত করার চেষ্টা করছি।
অরণ্য আনোয়ার ও মাহফুজ আহমেদের
আমাদের নূরুল হুদা
মেগা সিরিয়ালে কাজ করে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।
এছাড়া রওনক হাসানের রচনা ও অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায়
আগুনের আলো ধারাবাহিকের পর প্রণব
ভট্ট রচিত কাজী মোর্শেদের ধারাবাহিক নাটক
সংসার-এ কাজ করছি।
এই হল সংস্কৃতি অঙ্গনের
ব্যস্ততা। বাকিটা সময় ব্যয় করছি অফিস ও সংসার ধর্ম পালনে। অনেক গুণের ঈশিতা আগামীতে
নিজেকে একজন বড় মাপের নির্মাতা হিসেবেই দেখতে চান। ইশেতার কথায়, নির্মাণে তৃপ্তি
পাই সবেচেয়ে বেশি।
|
 |
বৃষ্টির দিন-এ শশী |
হাজার বছর ধরে
ছবিতে অভিনয় করে সমালোচক ও বোদ্ধাদের নজর কেড়েছিলেন শশী। দর্শকরাও
ঢালিউডের নায়িকা সংকটের এই সময়ে শশীর আগমনকে দেশি চলচ্চিত্রের জন্য সুসংবাদ হিসেবেই
নিয়েছিলেন। আর বর্তমান সময়ে টেলিভিশনে নাটক ও মডেলিং করে এরই মধ্যে নিজের অবস্থানকে
পোক্ত করে ফেলেছেন অপূর্ব।
আর ভিন্ন জগতের এই দুজনকে জুটি করে সম্প্রতি নির্মিত হচ্ছে নতুন ছবি বৃষ্টির দিন
। মঈনুল আহসান সাবেরের কাহিনীতে চিত্রনাট্য করেছেন বরকত উল্লাহ মারুফ এবং ছবিটি
পরিচালনা করছেন মোরশেদুল ইসলাম। বৃষ্টির দিন ছবিতে অভিনয় করা প্রসঙ্গে
শশী বলেন, মোরশেদুল ইসলামের ছবিতে কাজের সুযোগ খুঁজছিলাম। পেয়েও গেলাম। সঙ্গে
অপূর্ব- ভাবতে ভালোই লাগছে।
আশা করি ছবিটি দর্শকদেরও ভালো লাগবে। ছবিতে অপূর্বর চরিত্রটির নাম অপি। প্রথমবারের
মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় সম্পর্কে অপূর্ব বলেন, চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছা প্রত্যেকেরই
থাকে, আমারও ছিল। একজন খ্যাতিমান পরিচালকের হাত ধরে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
গল্পটি খুবই সুন্দর। আমি অনুরোধ করবো ছবিটি আপনারা দেখবেন।
ছবির চিত্রগ্রহণ করেছেন এ আর স্বপন, সঙ্গীত পরিচালনায় ইমন সাহা। ঢাকা শহরে চলছে এর
শুটিং কাজ। বৃষ্টির দিন মধ্যবিত্ত পরিবারের বন্ধনের গল্প, প্রতিবাদের গল্প,
প্রগাঢ় প্রেম ও ভালোবাসার গল্প । ছবির অন্য শিল্পীরা হলেন, ওয়াহিদা
মল্লিক জলি, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মনীষা আহমেদ, রুবেল, রাতুল, পিয়াল প্রমুখ।
|
|
নাটক-মডেলিংয়ের
সেওতি |
 |
| |
|
সাধারণত মডেলিং থেকে সবাই নাটকে যায়। কিন্তু সেওতির বেলায় হয়েছে ঠিক তার উল্টো।
সেওতি আগে নাটক করেছেন পরে মডেলিংয়ে এসেছেন। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায়
চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত সিক্সটি নাইন নাটকের মাধ্যমে তার মিডিয়ায়
আত্মপ্রকাশ।
এ নাটকে হাসান মাসুদের বিপরীতে সেজুতির ভূমিকায় অভিনয় তাকে আজকের
অবস্থান দাঁড় করিয়েছে। অথচ অভিনয়ে আগে তার হাতেখড়ি নেই।
যদিও ছেলেবেলা থেকে সেওতি স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে মিডিয়ায় কাজ করবেন। মানুষ তাকে টিভি
পর্দায় দেখবে, চিনবে।
তার সেই ছেলেবেলার স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। তাই এখন নিজেই যখন
নিজের অভিনয় টিভিতে দেখেন তখন দারুণ রোমাঞ্চিত ভাবেন নিজেকে। ভালো লাগে নিজের কাজ
নিজের চোখে দেখতে। দীর্ঘ দুই বছর বিরতির পর গ্রামীণফোনের এ কাজটি করে নিজেকে আরও
আত্মবিশ্বাসী ভাবেন তিনি।
নিজের পড়াশোনা এবং সন্তানের মা হওয়ার কারণে গত প্রায় দুই বছর বিরতি দিয়েছিলেন কাজের।
সামনে এমএ পরীক্ষা। তাই পরীক্ষা এবং দশ মাস বয়সী সন্তান শাহী শাহেদ সিনহাকে নিয়েই
তার ব্যস্ততা। স্বামী শাহেদ ফারুক সিনহা কুয়েত এয়ার ওয়েজের প্রকৌশলী। থাকেন সেখানে।
সুযোগ পেলেই ছুটে যান স্বামী কারছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান
বিভাগের ছাত্রী সেওতি।
স্কুলে পড়াকালীন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে বিশেষ করে গানে একাধিক
পুরস্কারও পেয়েছেন।
ছেলেবেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়া সেওতি গ্রামীণফোনের এ বিজ্ঞাপন
সম্পর্কে বলেন, আমাকে অমিতাভ রেজা যেভাবে ডিকটেশন দিয়েছেন সেভাবে কাজটি করার চেষ্টা
করেছি। আমার বিশ্বাস ডিরেক্টর যেভাবে করতে চেয়েছেন আমার কাছ থেকে তা পেয়েছেন। আমারও
বিশ্বাস কাজটি ভালো হয়েছে।
ভালো লাগছে কাজটি দেখে।
যেহেতু দুই বছর পর আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম তাই প্রথমে অনেকটা ভীত
ছিলাম। এ বিজ্ঞাপনটির শুটিং হয় ২৫ মে উত্তরার কলসেন্টারে এবং পরে আরেকদিন
এফডিসিতে।
সেওতির পৈতৃক নিবাস গাজীপুরের কালীগঞ্জে। তবে থাকেন ঢাকার রামপুরায়।
ছেলেবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন এখানে।
বাবা শামসুল হোসেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিএম এবং মা হোসনে আরা ইআরডির
ডেপুটি সেক্রেটারি।
দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তিনি। অভিনয় বা মডেলিং
নিয়ে তার অভিমত হলো, আমি মডেল বা অভিনয় করছি শখের জন্য, ভালোলাগার জন্য।
প্রথমে মনে হয়েছে আমি পারছি। আমার দ্বারা হচ্ছে। তাই আমি করছি।
যতদিন পারব এবং মানুষ ডাকবে ততদিন করে যাব। সামনে এমএ পরীক্ষা। পরীক্ষার পরে
আমার মডেলিং ও অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব।
মডেল ও অভিনেত্রী সেওতি ইতিমধ্যে একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করার অফার পেয়েছেন।
|
|
সেওতি সমগ্র
ডাক নাম : সেওতি
পুরো নাম : ফারিহা শামস সেওতি
জন্ম : ১৩ আগস্ট
উচ্চতা : ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি
বাবা : শামসুল হোসেন
মা : হোসনে আরা
স্বামী : শাহেদ ফারুক সিনহা
লেখাপড়া : এমএ (অধ্যয়নরত) নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সন্তান : শাহী শাহেদ সিনহা
ভাইবোন : ২ বোন ১ ভাই
অবস্থান : সবার বড়
শখ : গান শোনা
প্রিয় খাবার : শুটকি
অবসর কাটে : আড্ডা দিয়ে |
|
কিন্তু তিনি করেননি। করেননি এই কারণে যে, তিনি মনে করেন ওটা অনেক বড় জায়গা।
ওখানে কাজ করতে গেলে অনেক সাবধানে ও হিসেব করে পথ চলতে হয়। তাছাড়া এত সময় দেওয়ার মতো সময়ও
তার হাতে নেই। মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না তখন।
তবে সময় ও সুযোগমতো মডেলিং ও
অভিনয় চালিয়ে যেতে চান। সিক্সটি নাইন ছাড়াও ইতিমধ্যে রঙছুট, চলছে
চলবেই, লাল নীল বেগুনী, কুহুক ধারাবাহিক এবং নো ম্যান্স ল্যান্ড, যত
দূরে যাও ফের দেখা হবে, প্রিয় পারভীন প্রভৃতি একক নাটকে অভিনয় করেন।
নাটকগুলোর মধ্যে রঙছুট ধারাবাহিকের নন্দিতা চরিত্রটি তার দাগ কেটে যায়
এখনো। আর এ যাবৎ বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে ঢাকা ব্যাংকের বিজ্ঞাপনটির কথা মনে রেখেছেন
সর্বাগ্রে। দ্বিতীয় নম্বরে রেখেছেন বর্তমানে প্রচারিত তার গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনটি।
যতটুকু এসেছেন, আসার পেছনে অ্যানীভাবী ও তার স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতার কথা
কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
একান্তই ভালোলাগা থেকে আরও ভালো কিছু করে যেতে চান। নিজের ছেলেকে নিয়ে দারুণ গর্ব
করেন। আর ভবিষ্যতে তার ছেলেকে তার চেয়েও অনেক বড় সেলিব্রিটি বানানো স্বপ্ন দেখেন।
|
|
|
উঠে আসছেন মিম |
 |
লাক্স সুন্দরী মিম উঠে আসছেন ক্রমশ। যদিও
মাঝে মধ্যেই তার এই ঊর্ধ্বগতিতে বাধ সাধে
কুমিল্লা টু ঢাকা যাত্রা। মিডিয়ায় নিয়মিত
কাজ করবেন বলে এখনো মনস্থির করতে পারেননি
আর পড়াশুনার অজুহাতে এখনো তিনি অবস্থান
করছেন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।
মূলত নাটক-বিজ্ঞাপন যাই করেন না কেন তার
সবই চলে কুমিল্লা থেকে। এ নিয়ে মিমের
অবশ্য খুব বেশি হাপিত্যেশ নেই। তিনি বলেন,
পড়াশুনা আছে। তা ছাড়া এখনই মিডিয়ায় খুব
ব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন কি? আগে তো ছবিটা
মুক্তি পাক। কারণ এটা আমার প্রথম এবং
সর্বোচ্চ কাজ।
মূলত এটার ফলাফলের উপর ভর করছে আমার
সিদ্ধান্ত নেওয়া। তখন না হয় স্থায়ীভাবে
ঢাকায় ফেরা যাবে। এটা ঠিক
আমার আছে জল-এর সফলতা এবং সেখানে মিমের চরিত্র ও অভিনয়ের উপর নির্ভর করছে
তার সম্ভাবনা।
যদিও এরই মধ্যে তিনি বেশ প্রশংসা পেয়েছেন
বিগবস নামের একটি পানীয়র বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে। এটিও অনেকটা সিনেম্যাটিক
ফরমেটে তৈরি। অন্যদিকে
আমার আছে জল-এ মিমের বিপরীতে আছেন জাহিদ হাসান। ছবিতে মিমের শেষ পরিণতি
মৃত্যু।
মিম বলেন, আমি জানি ছবিটি মুক্তির পর আমি
উঠে যাব অনেক দূর। আমার চরিত্রটি যেকোনো
দর্শককে সাড়া দিবে। পুরো ছবিটি অনেক
আনন্দের। পুরোটাই পিকনিক অবয়বে গড়া। অথচ
এর মাঝেই রয়েছে ছোট ছোট অচিন দুঃখ। যা
আমরা সাধারণ সবাই বয়ে বেড়াই সঙ্গোপনে।
বেছে নেই আত্মহননের পথ, ভেসে যাই চোখের
নদীর জলে। সব মিলিয়ে হুমায়ূন স্যার আমার
জন্য অনেক করেছেন, সঙ্গে কৃতজ্ঞ লাক্সের
কাছেও। তা না হলে কিছু না হোক এমন একটি
চরিত্রে আমার অভিনয় করা হত না।
এদিকে আমার আছে জল
মুক্তির আগে কোনো ধারাবাহিক নাটকে মিম অভিনয় না করলেও আসন্ন ঈদের জন্য কয়েকটি
নাটকে অভিনয় করেছেন এবং আরও কয়েকটিতে
করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হুমায়ূন
আহমেদের
আহা আজি এ বসন্তে
। এতে মিমের বিপরীতে আছেন রূপক তালুকদার।
এই নাটক সম্পর্কে মিম বলেন, স্যারের সঙ্গে
কাজ করার মজাই আলাদা। মনে হয় নিজের
ঘরবাড়িতে আছি। আমার খুব ভালো লাগে ওনার
সঙ্গে কাজ করতে। এ নাটকটিও খুব মজার।
দর্শক নাটক দেখে খুব আনন্দ পাবেন।
এ ছাড়াও কথা রয়েছে মাহফুজ আহমেদের
পরিচালনায় নোবেলের বিপরীতে একটি টেলিছবির।
আনিসুল হকের চিত্রনাট্যে এটির নাম
শেষের কবিতার পরের কবিতা
। এটিও ঈদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আর কিছু ভাবছেন কি, নাটক বা ছবি?
ছবিতেই বোধ হয় বেশি পারফেক্ট হবেন, কি
বলেন? এমন প্রশ্নে দ্বিধাগ্রস্ত মিম বলেন,
আসলে বুঝতে পারছি না। আমার বিজ্ঞাপনটি
প্রচারের পর ও আমার আছে জল-এর
মিউজিক ভিডিও দেখে অনেকেই চলচ্চিত্রে
অফার করেছেন। বেশ ভালো অফারও ছিল।
মাঝে মাঝে লোভও হয়েছে অফার পেয়ে। তবুও
করিনি, কারণ প্রথম ছবিটি মুক্তি পাক। সে
সঙ্গে ঈদের জন্য দুটি নাটক করেছি, সেটাও
প্রচার হোক। তারপর হয়তো ভাবা যাবে। সব
মিলিয়ে আসন্ন ঈদ পর্যন্ত ব্যস্তই থাকবেন
নবাগতা সুন্দরী মিম।
|
 |
যে শিলার ক্ষয় নেই |
আকাশ থেকে বৃষ্টির সঙ্গে ঝরে পড়া শিলার স্থায়ীত্ব কম। তবে আমাদের টিভি নাটকের
জনপ্রিয় মুখ শারমীন শিলা অসাধারণ অভিনয় দিয়ে দর্শকমহলে তার উপস্থিতিকে স্থায়ী করে
রেখেছেন প্রায় এক দশক ধরে। তারার মালা পরে সেজে আছে আকাশটা। সন্ধ্যার হিম শীতল
বাতাস একটু আবেগী করে তুলেছে মেয়েটিকে। কখনো রবীন্দ্রনাথ, কখনো নজরুলের প্রসিদ্ধ
কবিতাগুলো আওড়ে যাচ্ছেন তিনি।
কাজের একটু অবসরে যখন এভাবেই সময় কাটছিলো, তখন আফসানা মিমির নির্দেশনা কানে বাজলো
মেয়েটির। একটা পরিবারের সদস্যদের মতো নাটকের কুশলীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে অপেমান। আর
এমন সময়ই আফসানা মিমি বিরাট একটি ফুলের তোড়া দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন
শারমীন শিলাকে।
তার কথায়, মিমি আপার বন্ধন মেগাধারাবাহিকে কাজ করে বেশি মজা পেয়েছি। এর শুটিংয়ের
সময় হাসি আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। আমরা কাজ করেছিলাম একটি পরিবারের সদস্যের মতো।
যেদিন যার জন্মদিন থাকত মিমি আপা বড় একটি ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাতেন।
কেক কাটা হতো। মজার সেই স্মৃতি আমাকে এখনো আলোড়িত করে।
বন্ধন-এর পর
বন্ধন মেগাধারাহিকে কাজ করে টিভি দর্শকদের কাছে নিজের মুখটি পরিচিত
করার পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেন শারমীন শিলা। এ নাটকের কাজের দর্শক সাড়া নিয়ে
তিনি জানালেন, এতে কাজের পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত দর্শকরা অনেকেই আমাকে সাদিয়া নামেই
চিনতো। বন্ধনের এ চরিত্রে কাজ করে আমি তৃপ্ত। বন্ধনের পর শারমীন শিলার সাফল্যের
প্রজাপতি শুধু সামনের দিকেই এগিয়ে চলেছে।
মেঘ বলেছে যাব যাব, রুদ্রর সঙ্গে বসবাস এমনি আরো বেশ কয়েকটি নাটকে
শারমীন শিলার অসাধারণ পারফর্মেন্স তাকে তুলে ধরেছে অভিনেত্রী হিসেবে সমৃদ্ধ এক
অবস্থানে। মেঘ বলেছে যাব যাব নাটকে কাজের কমপ্লিমেন্ট নিয়ে শারমীন শিলা
বলেন, এ নাটকে আমি রিনা নামের একটি মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি। এ চরিত্রের জন্য আমি
দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছি।
নাটকের প্রত্যেকটি শিল্পীর কাছ থেকেও আমি দারুণ প্রশংসা পেয়েছি। ওয়াহিদা মল্লিক জলি,
ইন্তেখাব দিনার, তাহের শিপন, দিলারা জামান, চিত্রলেখা গুহ, চয়নিকা চৌধুরী। সবাই
বলেছেন, এ নাটকে আমি অসম্ভব ভাল করেছি। মিমি আপা নাকি বলেছিলেন, এ নাটকে সবচেয়ে ভাল
চরিত্র ছিল রিনা। শীলা চমৎকারভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে।
মেগাসিরিয়াল ভাবনা
মেগাসিরিয়াল বা ডেইলিসোপ নিয়ে অভিনয়শিল্পীদের কেউ কেউ নেতিবাচক কথা তুললেও শারমীন
শিলা ইতিবাচক পথে হাঁটতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার জবানীতে, সত্যি বলতে কী, আমার
পরিচিতি এসেছে মেগাসিরিয়ালের মাধ্যমে। বন্ধন আমাকে পরিচিতি দিয়েছে।
নবীন শিল্পীকে পরিচিত করে তুলতে মেগাসিরিয়াল বা ডেইলিসোপ বেশ ভূমিকা রাখে।
তবে একক, তের বা ছাব্বিশ পর্বের নাটক করে যতটা তৃপ্ত হওয়া যায়, মেগাসিরিয়ালে তেমনটি
পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে ভাল রাইটারের খুবই অভাব। মেগাসিরিয়াল লিখতে গিয়ে অনেকেই
তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। এরমধ্যেও কিছু সিরিয়াল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, পাচ্ছে।
শ্যাম রাখি না কূল রাখি
এখন টিভি পর্দার তারকাদের চলচ্চিত্রে কাজের ঝোঁকটা যেন একটু বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে।
তবে শারমীন শিলা এখনো এ মাধ্যমে নাম লেখান নি। চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
প্রশ্নের ঘুড়িটা তার আকাশে উড়িয়ে দিতেই সুতো ধরে টান দিয়ে শারমীন শিলা বলেন, আমার
মনে হয় বড় পর্দায় কাজ করার ইচ্ছে সব অভিনয়শিল্পীই থাকে। তেমনি আমারও আছে। তবে এ
মাধ্যমে কাজ করতেই হবে এমন ভাবনাকে কখনোই প্রশ্রয় দেইনি মনে।
জয়যাত্রা ছবিতে কাজের অফার পেয়েছিলাম। ঠিক ওই সময়ই আমার বড়বোন বাংলাদেশে এসেছিলেন
বেড়াতে। তখন শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থা হয়েছিল আমার। অবশেষে বোনের সঙ্গে অবকাশ
যাপনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আর এ ছবিতে কাজ করা হয়নি। নন্দিত নরকে নামের
একটি ছবি দেখেছি আমি। ভাল লেগেছে। এ ধারার ছবিতে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে আমার। তবে
গতানুগতিক বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে একেবারেই নেই।
বর্তমান কাজ
শারমীন শিলা বর্তমানে একাধিক ধারাবাহিকে কাজ করছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সতীর্থ
রহমান রুবেলের এইটটিন প্লাস, হৃদি হকের নাইনটিন টুয়েন্টি । এতে তার
চরিত্র নিয়ে শারমীন শিলা বলেন, এইটটিন প্লাস নাটকে আমার চরিত্র খুব
সুন্দর। নাটকে দেখা যাবে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নাম করা লেখক।
আমি মাস্টার্স পড়ছি। একটু-আধটু লেখালেখিও করি। পীযূষ দার লেখা আমার দারুণ পছন্দের।
লেখা পড়তে পড়তে তার প্রতি আমার এক ধরনের ভালোবাসা তৈরি হয়। কিন্তু কখনো আমাদের দেখা
হয়নি। এক পর্যায়ে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমি তাকে পছন্দ করে ফেলি। এদিকে আমার বয়সী
তার একটি মেয়ে আছে। এভাবে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে চরিত্রটি এগিয়ে যায়।
|