|
নতুন একটি পৃথিবী। আর এ ভুবনে আসার কল্পনায় মেয়েটি তার দু’চোখে মেখেছিল
স্বপ্নের রঙ। কিন্তু যখন তিনি নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করলেন, অজানা কারণে একটু
নার্ভাস হয়ে গেলেন। এবার তার দু’চোখে কান্নার নোনাজল।
আর সেই কান্নার স্রোতে
স্বপ্নের রঙগুলো সরে যেতে দেখে একজন শিল্পী এগিয়ে এলেন মেয়েটিকে হাসাতে।
শিল্পী মজার মজার কথা বলে যতই মেয়েটিকে হাসানোর চেষ্টা করলেন, মেয়েটির
কান্নার সুর ততই বাড়ছে।
লাক্স তারকা বাঁধনের নায়িকা হিসেবে
এফডিসি’তে যাওয়ার প্রথম দিনটির গল্পটা ছিল এমনই।
আর সেই গল্প নিয়ে বাঁধন বলেন,
‘হঠাৎ করে এফডিসি গিয়ে আমি বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কেনো এমনটি ঘটেছিল ঠিক বুঝে
উঠতে পারিনি।
তারপর আমি কিছুক্ষণ কাঁদলাম। আমাদের মেকআপ শিল্পী ছিলেন খলিল ভাই। তিনি দারুণ
মজার মানুষ।
আমার কান্না দেখে তিনি আমাকে হাসানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। এক সময়
আমার কান্না এমনিতেই থেমে যায়। আমার প্রথম ছবি ‘নিঝুম অরণ্যে’ এর প্রথম দৃশ্য
ধারণ করা হয় কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে।
এটা আমার জন্য ছিল একটা মজার ঘটনা।
কারণ আমি পড়ছি বাংলাদেশ ডেন্টাল
কলেজে। আর আমার প্রথম দৃশ্যই একটি হাসপাতালে ধারণ করা হয়েছে। এরপর আউটডোর
শুটিংয়ে গেলাম।’ আউটডোর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল বাঁধনের জন্য চমৎকার।
এখনো সেই সময়গুলোকে অনেক অনেক মিস করেন তিনি।
বাঁধনের জবানীতে, ‘আউটডোরের কাজে
প্রথম আমরা কাপ্তাই গিয়েছিলাম। ট্রেনে চড়ে কাপ্তাই যেতে যেতে আমরা শুটিং করেছি।
ট্রেনের একটি বগি রিজার্ভ করা হয়েছিল আমাদের জন্য।
তারপর কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, চিটাগাং ও এর আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় কাজ করেছি।
আউটডোরের কাজ আমার জন্য ছিল অসম্ভব মজার একটি অভিজ্ঞতা। এটা আসলে আমি বলে বোঝাতে
পারবো না।’
চলচ্চিত্র ভাবনা
বাঁধনের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার কথা ছিল পুরোপুরি বাণিজ্যিক ধারার
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। কিন্তু ব্যাটে-বলে মিলেনি বলে তা
করা হয়ে ওঠেনি। চলচ্চিত্র ভাবনা এভাবেই প্রবেশ করলেন বাঁধন, ‘আমি তো শতভাগ
বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করতে চেয়েছিলামই।
কিন্তু নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তবে যে ছবিটি দিয়ে আমার যাত্রা শুরু হলো- সেটি
কিন্তু ইমপ্রেসের অন্য ছবিগুলো থেকে আলাদা। আমি আশাবাদী এ ছবিটি উল্লেখযোগ্য
সংখ্যক দর্শকদের মন জয় করবো। শাবনূর, মৌসুমী, পূর্ণিমারা যে ছবিতে কাজ করছেন আমি
তেমন ছবিতে আগামীতে কাজ করব।
তবে দেশীয় চলচ্চিত্র নিয়ে একশ্রেণীর মানুষের নাক সিঁটকানোর অভ্যাস রয়েছে। এমনকি
আমার অনেক বন্ধুরাও আমার চলচ্চিত্রে কাজের বিষয়টিকে কিছুটা নেতিবাচকভাবে দেখেছে।
আমি প্রমাণ করতে চাই আমাদের মতো মেয়েরা যখন চলচ্চিত্রে আসবে, তখন চলচ্চিত্রের
পরিবেশ আরো উন্নত হবে। এটা হবেই হবে। আমি তা প্রবলভাবে বিশ্বাস করি।’
|
মুগ্ধতার আকাশে
খুব বেশি কাজ করার পক্ষে নন বাঁধন। ভাল কয়েকটা কাজের মাধ্যমেও যে দর্শকদের
কাছাকাছি বেশি যাওয়া যায়- এই বিশ্বাস বাঁধন তার অন্তরে লালন করে রেখেছেন।
আর সে কারণেই মানসম্পন্ন হাতেগোনা কয়েকটি নাটকে অভিনয় বাঁধনকে জনপ্রিয় করেছে
অনেকখানি। বাঁধনের কথায়, ‘মিডিয়াতে যখন কোন অভিনয়শিল্পী বা মডেল কাজ শুরু করেন
তখন তার উপদেষ্টা সাজেন অনেকেই।
নতুনদের নানাজন নানা রকম উপদেশ দেন। একটি কথা অধিকাংশজনই বলে থাকেন। আর তা হলো
মিডিয়াতে টিকে থাকতে হলে সবসময়ই পর্দায় থাকতে হবে। আমাকেও এমন উপদেশ শুনতে হয়েছে
শতবার। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করি না। |
 |
আমি মনে করি, মানসম্পন্ন কাজ সংখ্যায় কম
হলেও তা একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারকে আলোকিত করে ভিন্ন মাত্রায়। এর প্রমাণ আমি
পেয়েছি।’ হুমায়ূন আহমেদের ‘চন্দ্রকারিগর’, ‘নাট্যকার হামিদ সাহেবের একদিন’,
‘অতঃপর শুভ বিবাহ’, ‘কবি’, আবুল হায়াতের ‘ভাল আছি ভাল থেকো’ (বিটিভিতে
প্রচার চলতি ধারাবাহিক) নাটকগুলোতে বাঁধনের অভিনয় অভিনেত্রী হিসেবে তাকে জনপ্রিয়তা
এনে দিয়েছে।
এ নাটকগুলোর দর্শকসাড়া নিয়ে বাঁধন জানলেন, ‘চন্দ্রকারিগর’, ‘নাট্যকার হামিদ
সাহেবের একদিন’, ‘অতঃপর শুভবিবাহ’, নাটকে কাজের দর্শকসাড়া এখনো মাঝে মাঝে পাই।
চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে রাঙামাটি যাওয়ার পর বিটিভিতে প্রচারিত ‘ভাল আছি ভাল থেকো’
নাটকে কাজের জন্য অধিবাসীদের কাছ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য শুনেছি।
তখন তাদের একজন দূর থেকে আমাকে দেখে যখন বলেছিল, ‘দ্যাখ! দ্যাখ! ওটা সখিনা না?
বিষয়টি আমাকে বেশ আনন্দ দিয়েছিল।’ দর্শকদের মুখ থেকে প্রাপ্ত প্রশংসা বাঁধনকে
নিয়ে যায় আনন্দময় অনুভূতির এক আকাশে। তখন মুগ্ধতার আকাশে প্রজাপতি হয়ে উড়ে
বেড়ান তিনি।
 |
নেত্রী বাঁধনের দিনগুলো
বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী বাঁধন। পড়াশুনায় মনোযোগী বলে শিক্ষকসহ
সহপাঠিরা তাকে খুবই পছন্দ করেন।
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ
নেয়ার আগে সহপাঠীরা তাকে নেত্রী বাঁধন বলে ডাকতেন।
বাঁধনের ভাষায়, ‘আমাদের কলেজে কোনো সমস্যা হলেই তা সমাধানের সুপারিশের জন্য
স্যারদের কাছে যাওয়ার জন্য সবাই আমাকে উৎসাহিত করতো।
ভয়ে কেউ স্যারদের কাছে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য যেতে সাহস পেত না। ভাল ছাত্রী
বলে আমি কোনো আবদার করলে স্যাররা ফেলতেন না। |
ফলে সব সমস্যার উত্তরণের জন্য আমিই
স্যারদের কাছে যেতাম। এজন্য সহপাঠিরা আমার নাম দিয়েছিল নেত্রী বাঁধন। এখনো এ
ধরণের কাজে আমাকেই অংশ নিতে হয়।’
মম ও বিন্দুর বয়ানে বাঁধন
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায়
তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন বাঁধন। শীর্ষ আসনে ছিলেন মম। প্রথম রানারআপ
হয়েছিলেন বিন্দু। ক্যাম্পের দিনগুলোর মতো এই তিন তারকার সম্প্রীতি এখনো অটুট।
তারকা মম-বিন্দুর মূল্যায়ন করতে গিয়ে বাঁধন বলেন, ‘মাঝে মম একই প্যাটার্নে
অভিনয় করত।
সেই জায়গা থেকে সরে এসে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙ্গে ভার্সেটাইল অভিনেত্রী
হওয়ার ওর যে চেষ্টা-সেটাকে সাধুবাদ। আর বিন্দু অসম্ভব সুন্দর একটি মেয়ে। ওর কথা
বলা, হাঁটাচলা, সবই সুন্দর। ও কমপ্লিট একজন মডেল। আমি ও বিন্দু না বুঝে অভিনয়
করি। আমরা থিয়েটারে কাজ করিনি বলে অভিনয়ের অনেক গ্রামার আমাদের জানা নেই। কিন্তু
মম’র তা রয়েছে।’
|